prekkhapt

                 "নব নির্বাচিত বিজিএমইএ'র সভাপতি ড.রুবানা হক ম্যাডামকে খোলা চিঠি।"

তারিখঃ 7/4/2019

মান্যবর ম্যাডাম,

আসসালামু আলাইককুম। 06/04/2019 তারিখের বিজিএমইএ'র নির্বাচনে সম্মিলিত ফোরাম বিজয় অর্জন করায় গার্মেন্টস শিল্পের পক্ষ থেকে তথা সোলার গ্রুপের পক্ষ থেকে নির্বাচিত সকল পরিচালক মহোদয় সহ আপনাকে এবং আমাদের শ্রদ্ধেয় নজরুল ইসলাম স্যারকে জানাই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

মান্যবর ম্যাডাম,

আপনার মত একজন সু-শিক্ষিত এবং শিল্পবান্ধব নেতৃত্ব পেয়ে আমরা পোশাক শিল্পের আকাশে নতুন নক্ষত্রের উদ্ভব হয়েছে বলে মনে করি। আমরা আরো আশা করি ঢাকা সিটির প্রায়ত নগর পিতা শ্রদ্ধাবর আনিসুল হক স্যারের সু-যোগ্য সহধর্মিণী হিসেবে মালিক শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণে নিজেকে এক অন্যান্য উচ্চতায় পৌছে নিতে সক্ষম হবেন।

মান্যবর ম্যাডাম,

আমি মনে করি আপনাকে প্রথমেই যে কাজটি দিয়ে নেতৃত্বের হাতে খড়ি দিবেন তা হল রানা প্লাজা দিবস।বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার হতে কিছু উপমা টানতে হয়েছে। আশা করি আপনি নিজ গুনে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন এবং পরো বিষয়টি উপলদ্ধি করবেন।

মান্যবর ম্যাডাম,

১৮৮৬ সালে আমোরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসাকার শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে পালিত হয়। সেদিন দৈনিক আটঘন্টার কাজের দাবীতে শ্রমিকরা হে মার্কেটে জমায়েত হয়েছিল। তাদেরকে ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাতনামার বোমা নিক্ষেপের পর পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলীবর্ষণ শুরু করে। ফলে প্রায় ১০-১২জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হয়।১৮৮৯ সালে ফরাসী বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক-এর প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১৮৯০ সাল থেকে শিকাগো প্রতিবাদের বার্ষিকী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালনের প্রস্তাব করেন রেমন্ড লাভিনে।১৮৯১ সালের আন্তর্জাতিকের দ্বিতীয় কংগ্রেসে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এরপরপরই ১৮৯৪ সালের মে দিবসের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। পরে, ১৯০৪ সালে আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই উপলক্ষে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে দৈনিক আটঘন্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবী আদায়ের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বজুড়ে পয়লা মে তারিখে মিছিল ও শোভাযাত্রা আয়োজনের সকল সমাজবাদী গণতান্ত্রিক দল এবং শ্রমিক সংঘের (ট্রেড ইউনিয়ন) প্রতি আহবান জানানো হয়। সেই সম্মেলনে "শ্রমিকদের হতাহতের সম্ভাবনা না খাকলে বিশ্বজুড়ে সকল শ্রমিক সংগঠন মে'র ১ তারিখে "বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না করার" সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।অনেক দেশে শ্রমজীবী জনতা মে মাসের ১ তারিখকে সরকারি ছুটির দিন হিসাবে পালনের দাবী জানায় এবং অনেক দেশেই এটা কার্যকরী হয়। দীর্ঘদিন ধরে সমাজতান্ত্রিক, কমিউনিস্ট এবং কিছু কট্টর সংগঠন তাদের দাবী জানানোর জন্য মে দিবসকে মুখ্য দিন হিসাবে বেছে নেয়। কোন কোন স্থানে শিকাগোর হে মার্কেটের আত্মত্যাগী শ্রমিকদের স্মরণে আগুনও জ্বালানো হয়ে থাকে।পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র, চীন, কিউবাসহ বিশ্বের অনেক দেশেই মে দিবস একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সে সব দেশে এমনকি এ উপলক্ষে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতেও এই দিনটি যথাযথভাবে পালিত হয়ে আসছে। ভারতে প্রথম মে দিবস পালিত হয় ১৯২৩ সালে।
আমেরিকা ও কানাডাতে অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে শ্রম দিবস পালিত হয়। সেখানকার কেন্দ্রীয় শ্রমিক ইউনিয়ন এবং শ্রমের নাইট এই দিন পালনের উদ্যোগতা। হে মার্কেটের হত্যাকাণ্ডের পর আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মনে করেছিলেন পয়লা মে তারিখে যে-কোন আয়োজন হানাহানিতে পর্যবসিত হতে পারে। সে জন্য ১৮৮৭ সালেই তিনি নাইটের সমর্থিত শ্রম দিবস পালনের প্রতি ঝুঁকে পড়েন।
মান্যবর ম্যাডাম,

এদিকে আমাদের বাংলাদেশে ২৪ এপ্রিল ২০১৩ সকাল ৮:৪৫ এ সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামের একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে।ভবনের কয়েকটি তলা নিচে দেবে যায়। কিছু অংশ পাশের একটি ভবনের ওপর পড়ে। এ দূর্ঘটনায় এক হাজার ১৭৫ জন শ্রমিক নিহত এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয় যা বিশ্বের ইতিহাসে ৩য় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।এত বড় দূর্ঘটনার ব্যাপারে আমাদের সরকার বা বিজিএমইএ'র ভূমিকা নিয়ে এখন আঙ্গুল তুলেছে সাধারণ শ্রমিকরা। মান্যবর ম্যাডাম,

এ দিবসটিতে ছুটির ব্যাপারে সরকার এবং বিজিএমইএ আজ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত না নিয়ে শ্রমিকদের ঠেলে দিচেছ খাদের কিনারে। এ দিবসে সরকার এবং বিজিএমইএ'র সু-নিদিষ্ঠ কোন দিক নির্দেশনা না থাকার কারনে মালিকরা যেমন পারেননা লোভ সামলাতে তেমনি শ্রমিকরা কাজ করতে এসে পরেন বিপাকে।এতবড় একটি দূর্ঘটনার জন্য শুধু গার্মেন্টস কেন গ্রহ নক্ষত্র সর্বত্র ছুটি থাকা উচিৎ বলে সাধারণ শ্রমিকরা মনে করেণ।এছাড়া দীর্ঘ পাঁচ বছরে রানা প্লাজার মালিক রানার বিচার হয়নি।সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ শ্রমিক এবং জনগণকে পূঁজি করে বরাবরই নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে আসছে।এর সাথে এখন নতুন করে যোগ হচ্ছে বিজিএমইএ।গার্মেন্টস শ্রমিকরা বরাবরই রয়ে গেছে দারিদ্র সীমার নিচে অথচ মালিক নামের শিল্পপতিরা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেলেন।

মান্যবর ম্যাডাম,

যাইহোক একজন শীর্ষ নেত্রী হিসেবে আমার আমাকে নয় শ্রমিকদের কথা বিবেচেনা করে আপনার সু-দৃষ্টি কামনা করছি এবং চব্বিশ এপ্রিলের আগেই বিষয়টি আমলে নিবেন এবং শান্তিপূর্ন সমাধান করবেন।

ধন্যবাদান্তে-

সাইদ খোকন নাজিরী

ম্যানেজার এইচ.আর

সোলার গ্রুপ

মোবাঃ 01689143270

ই-মেইলঃ sayeddhaka78@gmail.com